দৃষ্টিনন্দন শ্রীমঙ্গলের ভুরভুরিয়া চা-বাগান লেক

লেখক: আতাউর রহমান কাজল, শ্রীমঙ্গল
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

দিগন্তজোড়া সবুজ চা-বাগানের জন্য পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় চা-শহর শ্রীমঙ্গল। এটি সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলায় অবস্হিত। শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশে চায়ের রাজধানী হিসেবে সুপরিচিত। তাছাড়া দেশে সবচেয়ে বেশি চা-বাগান শ্রীমঙ্গলে অবস্হিত। ছোট-বড় ও ফাঁড়ি বাগান মিলিয়ে যার সংখ্যা ৪৪টি।

যেহেতু শ্রীমঙ্গলের প্রধান আকর্ষন চা-বাগান তাই এখানে সবচেয়ে সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। বিশেষ করে চা-বাগানের লেকগুলো বর্ষাকালে সবচেয়ে সুন্দর রুপ ধারন করে। তাই শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান ও চা-বাগান লেক খুবই উপভোগ্য ও প্রশান্তিদায়ক।

চারদিকে উঁচু-নীচু টিলা। টিলার ওপর সবুজ-শ্যামল চা-বাগান। সবুজের সমারোহ। আর হরেক প্রজাতির গাছ-গাছালি। এরই মাঝে একটি লেক। দেখলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। এমন মনোলোভা দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়। নান্দনিক সৌন্দর্যের এ লেকটির অবস্হান শ্রীমঙ্গলের ভুরভুরিয়া চা-বাগানে। যার নাম ভুরভুরিয়া চা-বাগান লেক।

শ্রীমঙ্গল শহর থেকে খুব কাছে এ লেকটির আকর্ষণ কম নয়। যদিও অনেক চা-বাগানেই লেক রয়েছে। তথাপি এ লেকটির সৌন্দর্যই আলাদা। উঁচু-নীচু টিলায় ঘেরা এ লেকটির দুর্বার আকর্ষণে অনেকেই ছুটে আসেন। টিলায় টিলায় সবুজ-শ্যামল ঢেউ খেলানো চা-বাগান সহজেই মনকে পুলকিত করে। এমন মনোমুগ্ধকর নৈসর্গিক দৃশ্য দেখে মন-প্রাণ আনন্দে নেচে ওঠে।

শ্রীমঙ্গল শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌমোহনা থেকে পাকা সড়কে কলেজ সড়ক হয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পেরুলেই ভাড়াউড়া চা-বাগান। এই চা-বাগানের ভেতর দিয়ে কাঁচা রাস্তায় আরো প্রায় দুই কিলোমিটার আঁকাবাঁকা পথ পাড়ি দিলেই দেখা মিলবে ভুরভুরিয়া লেকের।

স্বচ্ছ পানিতে টলমল লেকের চারদিকে সরু মাটির পথে ঘুরে লেকটির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়। টিলাগুলো লাল মাটির। এ সৌন্দর্যটাও কম নয়। টিলাগুলোতে সবুজ চা বাগানের সারি। চা-বাগানগুলোতে চোখে পড়ে ব্যস্ত চা কন্যাদের চা পাতা চয়নের দৃশ্য যা মনকে সহজেই আন্দোলিত করে।

ফিনলে চা কোম্পানীর আওতাধীন ভাড়াউড়া টি ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার ও বাংলাদেশীয় চা সংসদের সিলেট ব্রাঞ্চের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী জানান, ২০২১ সালে টি প্লান্টেশনের জন্য ভুরভুরিয়া চা বাগানে এই লেকটি তৈরি করা হয়েছে। চা-বাগানে সেচের জন্য তৈরি করা হয়েছে এই লেক। এই লেকের চারপাশে ১০০ হেক্টর টিলা ও সমতলে চা বাগান করা হয়েছে। সেচ কার্য ছাড়াও লেকে করা হয়েছে মাছ চাষ।

চা-বাগান কর্তপক্ষের অনুমতি নিয়ে আপনি লেকটি ঘুরে আসতে পারেন। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে মটরবাইক বা সিএনজি অটোরিকশা করে ১৫/২০ মিনিটের মধ্যে আপনি পৌছে যেতে পারেন ভুরভুরিয়া লেকে।