ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স কিভাবে করবেন

লেখক:
প্রকাশ: ১ বছর আগে

নতুন একটি ব্যবসা পরিচালনার কথা ভাবছেন। কিভাবে শুরু করবেন সেটা? কোন প্রক্রিয়ায় গেলে বৈধ ভাবে ব্যবসা করতে পারবেন তার সঠিক সমাধান খুজছেন? তাহলে আর কোন চিন্তা না করে প্রথমত যেটার প্রয়োজন সেটা নিয়েই ভাবুন।

ব্যবসার ধরণ (কি ব্যবসা করবেন) নির্বাচন করে সেই বিষয় ভিত্তিক নাম দিন যেন কেউ সহজেই বুঝতে পারে আপনি কি ব্যবসা করছেন। এরপরে আসুন ব্যবসার প্রাণ পুরুষকে নিয়ে ভাবি। “ট্রেড লাইসেন্স”। এটি একটি ব্যবসার প্রাণ পুরুষ নামেই খ্যাত। যা না থাকলে আপনার শত কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে অবৈধ।

এবার চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক একটি ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স করতে গেলে কোন কোন প্রক্রিয়া পালন করতে হয়।

আমাদের দেশে বর্তমানে ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স করতে গেলে অনেকে অনেক বিপত্তির মাঝে পড়ে থাকেন। এর কারণ হিসেবে বলা যায় বিষয় ভিত্তিক অজ্ঞতা। কোন প্রকার দালালের মাধ্যমে নয় নিজেই করুন নিজের ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স।

ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স কিভাবে করবেন

ট্রেড লাইসেন্স কি ?

Trade অর্থ ব্যবসা এবং License অর্থ অনুমতি প্রদান পত্র অর্থাৎ, ব্যবসা করার জন্য যে অনুমতি পত্রের মাধ্যমে দেওয়া হয়, তাকে Trade License Paper বলা হয়।

এই লাইসেন্স যে কোন উদ্যোক্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রদান করা হয়। ট্রেড লাইসেন্স শুধুমাত্র লাইসেন্সধারী ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের নামে প্রদান করা হয় যা কোনোভাবে হস্তান্তরযোগ্য নয়। প্রতিটি ব্যবসার ধরণ অনুযায়ী অলাদা অলাদা লাইসেন্স করা বাধ্যতামূলক।

তাই বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে চাইলে ট্রেড লাইসেন্স করা জরুরী।

কোথায় গেলে ট্রেড লাইসেন্স করতে পারবেন

দেশের যে কোন জেলার সিটি কপোরেশনের একটি শাখা থাকে ট্রেড লাইসেন্স’র জন্য। সেখানে গেলে তারাই আপনাকে বলে দেবে কোন কোন প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাগজ আপনাকে দাখিল করতে হবে।

একটি  বৈধ ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজন হয় ট্রেড লাইসেন্স। তবে, এই ট্রেড লাইসেন্স কি, কোথায় যেতে হয়, কীভাবে করতে হয়, কবে নাগাদ পাওয়া যাবে- এ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রায়ই আমাদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

ব্যবসার ধরণ অনুযায়ী ট্রেড লাইসেন্সের ফি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে যা আপনি অনলাইনে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন অতি সহজেই। তাহলে কেন মিছে দালালের সহায়তায় অতিরিক্ত টাকা খরচ করবেন।

তাই আর দেরি না করে নিজের ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স নিজেই করে ফেলুন তাতে জানতেও পারবেন জানাতেও পারবেন।

দেশের সকল সিটি কর্পোরেশন এই প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করে থাকে। এ ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা কিংবা জেলা পরিষদ এই লাইসেন্স প্রদান করে থাকে।

বৃহত্তর ঢাকা শহরের জন্য, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (উত্তর ও দক্ষিণ) এই সেবা প্রদানের জন্য সিটি কর্পোরেশনকে কতগুলো অঞ্চলে বিভক্ত করে দিয়েছে। এর মাঝে উত্তর সিটিতে পাঁচটি এবং দক্ষিণ সিটি তে পাঁচটি অঞ্চল রয়েছে। আপনার নতুন প্রতিষ্ঠানটি যে অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ঐ অঞ্চলের অফিস থেকেই ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে।

আপনার করা আবেদনের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তদন্ত করতে এবং এর  প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট পরিমাণ লাইসেন্স ফি পরিশোধের মাধ্যমে লাইসেন্স দিয়ে থাকে।

ট্রেড লাইসেন্স ফি ও কতোদিনে পাবেন

মূলত যার যার ব্যবসার ধরনের ওপর নির্ভর করে লাইসেন্স ফি নির্ধারিত হয়। এই ফি সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ২৬ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

সাধারণত, একটি লাইসেন্স পেতে তিন থেকে সাত কর্ম দিবস সময় লাগতে পারে।

বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- http://www.bangladesh.gov.bd/

লাইসেন্স করার নিয়মাবলী

সর্বনিম্ন ১৮ বছর বয়সের যেকোনো নাগরিক ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

মূলত দুই ধরণের ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে।

১। নতুন ট্রেড লাইসেন্স

২। ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন

নতুন ট্রেড লাইসেন্সের জন্য যেসকল কাগজপত্র প্রয়োজনীয়

সাধারণ ট্রেড লাইসেন্স: ভাড়ার রশিদ অথবা চুক্তিপত্রের সত্যায়িত কপি, এবং হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রশিদের কপি।

শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য ট্রেড লাইসেন্স: উপরোক্ত সব ডকুমেন্টসমূহ এর সাথে-

পরিবেশের ছাড়পত্র, অবস্থান চিহ্নিত মানচিত্র, ফায়ার সিকিউরড প্রস্তুতি সংক্রান্ত প্রত্যয়ন পত্র, ডি.সি.সি.’র নিয়মাবলী মান্য করার শর্তে ১৫০ টাকার জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারপত্র, ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

ক্লিনিক অথবা ব্যক্তিগত হাসপাতালের ক্ষেত্রে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদন।

লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে:   মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেল – সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন।

কাগুজে ছাপাখানা ও আবাসিক হোটেল ব্যবসার ক্ষেত্রে ডেপুটি কমিশনারের অনুমতি।

রিক্রুটিং এজেন্সির ক্ষেত্রে মানবসম্পদ রপ্তানি ব্যুরো প্রদত্ত লাইসেন্স।

অ*স্ত্র ও গোলা*বারুদের ক্ষেত্রে: অ*স্ত্রের লাইসেন্স।

ঔষধ ও মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে: ড্রাগ লাইসেন্সের কপি।

ট্রাভেলিং এজেন্সির ক্ষেত্রে: সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি।

লাইসেন্স নবায়ন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যার মেয়াদ এক বছর। এই মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে আবেদন করতে হয়।