রূপগঞ্জে মোবাইলের লুডু এখন “ডিজিটাল জুয়া”

লেখক: বিপ্লব হাসান, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা জুড়ে লুডু খেলা এখন জুয়ায় পরিণত হয়েছে। এক সময়ে যে লুডু বোর্ড ছিল কাগজে তৈরি, এখন তা মোবাইলে সফটওয়্যারের মাধ্যমে পাওয়া যায়। এ মোবাইলের মাধ্যমেই চলছে জুয়া।

উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের অলি-গলিসহ বিভিন্ন প্রান্তে এ ডিজিটাল জুয়া চলছে দিন-রাত।

স্মার্টফোনে লুডু কিং নামে একটি সফটওয়্যার ইনস্টল করে সর্বোচ্চ আটজন মিলে এ খেলা খেলতে পারে। খেলার ধরন রয়েছে দুই প্রকার। একটি অনলাইনের মাধ্যমে অপরটি একটি মোবাইলে একইসঙ্গে বসে খেলা যায়। তবে অনলাইন ছাড়া একসঙ্গে চারজনের খেলার প্রবনতা বেশি দেখা গেছে।

চারজন মিলে খেললে এক একটি গেইম শেষ হতে সময় লাগে প্রায় ৩০ মিনিট। প্রতি গেমে বাজি ধরা হয় ১০০-৫০০ টাকা। কোন কোন ক্ষেত্রে টাকার পরিমাণ আরো বেশিও হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এক ব্যক্তি বলেন, তিনি পেশায় একজন পিকাপ চালক। এক সময় নিয়মিত মোবাইল ফোনে লুডু কিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে জুয়া খেলতেন। খেলতে খেলতে এমন নেশা হয়েছিল যে শেষ পর্যন্ত আয়ের উৎস পিকাপটিও বিক্রি করে দিতে হয়েছে দেনার কারনে। এখন তিনি বেকার।

তিনি আরও জানান, উপজেলার গোলাকান্দাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গেলেলেই দেখা যায় এ জুয়ার আসর জমজমাট। এসব জায়গায় যারা লুডুর মাধ্যমে জুয়া খেলে তারা একটি মোবাইলের মাধ্যমে একসঙ্গে বসে। বেশি ভাগই হলো তরুণ এবং যুবকরা।

ভূলতা ও গোলাকান্দাইল এলাকার কয়েকজন বাসিন্দারা বলেন, আমাদের যুবকরা এখন ধংশের পথে। কারন মোবাইল ফোনে এখন কথা হয় না। চলে জুয়া খেলার আড্ডা। আমাদের সন্তানরা লেখা পড়া বাদ দিয়ে বসে মোবাইলে জুয়ার আড্ডায়।

শীতলক্ষ্যা কাউন্টারের ম্যানেজার জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এসব জুয়ারিরা যখন সর্বস্ব হারিয়ে ফেলে, তখন তারা সামাজিক নানা প্রকার অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে। তাই এ ধরনের জুয়া বন্ধ করার জন্য জরুরী ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার প্রসাশনের।’

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, এ বিষয়ে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। তবে খুব শিঘ্রই একটি অভিযান চালানো হবে ডিজিটাল জুয়ারিদের বিরুদ্ধে।