Hi

9:41 am, Tuesday, 20 January 2026

মেঝেতে স্ত্রীর গলাকাটা লাশ, আড়ায় ঝুলছে স্বামীর মরদেহ

বরগুনা সদর উপজেলায় হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা ঘটেছে, মেঝেতে স্ত্রীর রক্তাক্ত গলা’কাটা লাশ ও আড়ায় ফাঁসরত অবস্থায় স্বামীর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে,অক্ষত ২শিশু উদ্ধার। সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ ইটবাড়িয়া গ্রামের মোল্লা বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে।

রবিবার ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সকালে পুলিশ ঘটনাস্হলে এসে স্বামী ও স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। বর্তমানে পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করতেছে। বর্তমানে মোল্লা বাড়িটি তদন্তের স্বার্থে ক্রাইম সিন দিয়ে ঘিরে রেখেছে পুলিশ।

নিহত স্ত্রীর নাম আকলিমা (২৭)। সে একই ইউনিয়নের দক্ষিণ ইটবাড়িয়া গ্রামের আব্বাস মৃধার মেয়ে। নিহত স্বামীর নাম স্বপন মোল্লা (৩২)। পেশায় দিনমজুর। স্বপন একই গ্রামের খালেক মোল্লার ছেলে। নিহতের পরিবারে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। ওদেরকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।বড় মেয়ের বয়স যথাক্রমে ৫ বছর ও ছোট মেয়ের ১ বছর।

ঘটনাস্হলে উপস্থিত নিহত স্বপনের চাচাতো বোন রাজিয়া বেগম বলেন, ভোরে ঘুম থেকে ওজু করতে নামলে বড় মেয়ে সাদিয়া দৌড়ে এসে বলে, ” আম্মি মোগো ঘরে চলেন মা কথা বলেনা। আব্বাকেও দেখিনা। আমি ঘরে গিয়ে দেখি আকলিমার গলাকাটা রক্তমাখা লাশ পরে আছে মেঝেতে। এসময় স্বপনকে খুজলে তার বিছানার ওপর মোবাইল পড়ে আছে পাশেই চেয়ে দেখি ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো মরদেহ।

নিহত স্বপনের বড় ভাই, কবির মোল্লা বলেন, আমার ভাইয়ের কোন শত্রু নেই তবে সাংসারিক কলহ লেগেই লাগতো। এবিষয়ে তিনি আরো বলেন, স্বপন নিয়মিত কাজ না করা নিয়ে প্রায়ই দ্বন্ধ ও ঝগড়াঝাটি হাতাহাতি হতো।

এবিষয়ে নিহত আকলিমার বাবা আব্বাস মৃধা জানান, ঘটনাটি পারিবারিক কলহের কারণে ঘটতে পারে।

এবিষয়ে বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশের টিম দ্রুত ঘটনাস্হলে আসে। বর্তমানে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করতেছে। হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে বর্তমানে জায়গাটি ক্রাইম সিন দিয়ে আটকে রেখে তদন্ত কার্যক্রম চলতেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে বড় দেহ দুটি ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।তাদের(স্বপন ও আকলিমা)র মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম এন্ড অপস) জহিরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। এছাড়াও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই) দুটি টিম ঘটনাস্থলে এসেছে তারাও বিষয়টি তদন্ত করছেন। এঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।তিনি বলেন আজ রবিবার দিবাগত রাতের কোন একসময় এই ঘটনাটি ঘটেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

পরিবেশনকারীর তথ্য

জনপ্রিয়

যে বিলের পর রিজার্ভ কমে দাঁড়াল ৩০ বিলিয়ন ডলারে

© All rights reserved © Newseason24
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Newseason IT

মেঝেতে স্ত্রীর গলাকাটা লাশ, আড়ায় ঝুলছে স্বামীর মরদেহ

আপডেট : 08:45:08 pm, Sunday, 7 September 2025

বরগুনা সদর উপজেলায় হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা ঘটেছে, মেঝেতে স্ত্রীর রক্তাক্ত গলা’কাটা লাশ ও আড়ায় ফাঁসরত অবস্থায় স্বামীর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে,অক্ষত ২শিশু উদ্ধার। সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ ইটবাড়িয়া গ্রামের মোল্লা বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে।

রবিবার ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সকালে পুলিশ ঘটনাস্হলে এসে স্বামী ও স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। বর্তমানে পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করতেছে। বর্তমানে মোল্লা বাড়িটি তদন্তের স্বার্থে ক্রাইম সিন দিয়ে ঘিরে রেখেছে পুলিশ।

নিহত স্ত্রীর নাম আকলিমা (২৭)। সে একই ইউনিয়নের দক্ষিণ ইটবাড়িয়া গ্রামের আব্বাস মৃধার মেয়ে। নিহত স্বামীর নাম স্বপন মোল্লা (৩২)। পেশায় দিনমজুর। স্বপন একই গ্রামের খালেক মোল্লার ছেলে। নিহতের পরিবারে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। ওদেরকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।বড় মেয়ের বয়স যথাক্রমে ৫ বছর ও ছোট মেয়ের ১ বছর।

ঘটনাস্হলে উপস্থিত নিহত স্বপনের চাচাতো বোন রাজিয়া বেগম বলেন, ভোরে ঘুম থেকে ওজু করতে নামলে বড় মেয়ে সাদিয়া দৌড়ে এসে বলে, ” আম্মি মোগো ঘরে চলেন মা কথা বলেনা। আব্বাকেও দেখিনা। আমি ঘরে গিয়ে দেখি আকলিমার গলাকাটা রক্তমাখা লাশ পরে আছে মেঝেতে। এসময় স্বপনকে খুজলে তার বিছানার ওপর মোবাইল পড়ে আছে পাশেই চেয়ে দেখি ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো মরদেহ।

নিহত স্বপনের বড় ভাই, কবির মোল্লা বলেন, আমার ভাইয়ের কোন শত্রু নেই তবে সাংসারিক কলহ লেগেই লাগতো। এবিষয়ে তিনি আরো বলেন, স্বপন নিয়মিত কাজ না করা নিয়ে প্রায়ই দ্বন্ধ ও ঝগড়াঝাটি হাতাহাতি হতো।

এবিষয়ে নিহত আকলিমার বাবা আব্বাস মৃধা জানান, ঘটনাটি পারিবারিক কলহের কারণে ঘটতে পারে।

এবিষয়ে বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশের টিম দ্রুত ঘটনাস্হলে আসে। বর্তমানে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করতেছে। হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে বর্তমানে জায়গাটি ক্রাইম সিন দিয়ে আটকে রেখে তদন্ত কার্যক্রম চলতেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে বড় দেহ দুটি ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।তাদের(স্বপন ও আকলিমা)র মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম এন্ড অপস) জহিরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। এছাড়াও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই) দুটি টিম ঘটনাস্থলে এসেছে তারাও বিষয়টি তদন্ত করছেন। এঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।তিনি বলেন আজ রবিবার দিবাগত রাতের কোন একসময় এই ঘটনাটি ঘটেছে।