শুক্রবার, জুন ১৪, ২০২৪
spot_img

গোপালগঞ্জ জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত

গোপালগঞ্জ জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত

আপনি যদি গুগলে অনুসন্ধান করেন গোপালগঞ্জ জেলার নামকরণের ইতিহাস, গোপালগঞ্জ কিসের জন্য বিখ্যাত? গোপালগঞ্জ জেলা কেন বিখ্যাত, গোপালগঞ্জ জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি, গোপালগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থান সমূহ নিয়ে তবে সঠিক জায়গায় এসেছেন। গোপালগঞ্জ সহ আরও অন্যান্য সকল জেলা পরিচিতি আপনি আমাদের সাইটের মাধ্যমে সহজেই পেতে পারবেন।

গোপালগঞ্জ জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত । Gopalganj kiser jonno bikkhato

বাংলাদেশে ৬৪টি জেলার মধ্যে গোপালগঞ্জ জেলা অন্যতম। বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ঢাকা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল গোপালগঞ্জ । এর আয়তন ১৪.২৫ বর্গকিলোমিটার। এই জেলার পূর্বে মাদারীপুর ও বরিশাল , দক্ষিণে পিরোজপুর , বাগেরহাট ও খুলনা, পশ্চিমে নড়াইল ও মাগুরা এবং উত্তরে ফরিদপুর জেলা অবস্থিত।

গোপালগঞ্জ জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত

গোপালগঞ্জ জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত

 

গোপালগঞ্জ জেলা পাট, বাদাম,ও তরমুজের জন্য বিখ্যাত। কারণ এই জেলাতেই উল্লেখিত পণ্য সমূহ সর্বাধিক পরিমাণে উৎপন্ন হয়ে থাকে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জ জেলাতে ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মস্থান।

গোপালগঞ্জ জেলার নামকরণের ইতিহাস

গোপালগঞ্জ জেলা আগের নাম ছিল রাজগঞ্জ । সে সময় ছিল ব্রিটিশের রাজত্ব। রানী রাসমনি ছিলেন জেলে কন্যা। রানী রাসমনির নাতি ছিলেন গোপাল। সেই গোপালের নামকরনে রাজগঞ্জের নামবদলে গোপালগঞ্জ জেলায় পরিচিত পায়। গোপালগঞ্জ জেলায় সর্বমোট ৫ টি উপজেলা রয়েছে। 
 
উপজেলা সমূহ: গোপালগঞ্জ সদর, টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া উপজেলা, কাশিয়ানী উপজেলা, মুকসুদপুর উপজেলা

গোপালগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থান

গোপালগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থান

 

গোপালগঞ্জ জেলার বিখ্যাত দর্শনীয় স্থান ও এটি স্বণামধন্য হওয়ার অন্যতম কারণ হলো :

মধুমতি নদীর তীরে পাটগাতির পরেই গোপালগঞ্জ টুঙ্গিপাড়া। গোপালগঞ্জ শহর থেকে ১৯ কিলোমিটার দূরে এই টুঙ্গিপাড়া। নির্জন নিরিবিলি উপজেলা শহর। এখানে চারদিকে গাছগাছালি, ফল ও বিল। যেন ছবির মতো সাজানো এই টুঙ্গিপাড়া। এই টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহামনের সমাধি। বঙ্গবন্ধুর সমাধির পাশেই তাঁর বাড়ি।এখানে ঢুকতেই পাথরের গায়ে লেখা রয়েছে – “দাঁড়াও পথিক বর যথার্থ বাঙালি যদি তুমি হও। ক্ষণিক দাঁড়িয়ে যাও, এই সমাধিস্থলে। এখানে ঘুমিয়ে আছে, বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা। এ বাংলাদেশের মুক্তিদাতা, বাংলার নয়নের মণি”।

টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্স,

চন্দ্রা বর্মা ফোর্ট (কোটাল দুর্গ),

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈত্রিকবাড়ী,

কবি কৃষ্ণনাথ সর্বভৌম (ললিত লবঙ্গলতা কাব্যগন্থের প্রণেতা)-র বাড়ী,

হরিনাহাটি জমিদার বাড়ি : হরিনাহাটি জমিদার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার হরিনাহাটি নামক স্থানে অবস্থিত ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি।

দিঘলীয়া দক্ষিণা কালী বাড়ি,

বহুতলী মসজিদ (১৫৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত),

সেন্ট মথুরানাথের সমাধি,

উজানীর জমিদার বাড়ি : উজানী জমিদার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায় মুকসুদপুরের উজানী গ্রামে অবস্থিত।

শ্রীধাম ওড়াকান্দি,

জগদান্দ মহাশয়ের তীর্থভূমি,

ননীক্ষীরে নবরত্ন মঠ,

ঐতিহাসিক রমেশ চন্দ্র মজুমদারের পৈতৃক বাড়ী,

ধর্মরায়ের বাড়ি,

দীঘলিয়া দক্ষিণা কালীবাড়ি,

মধুমতি নদী : মধুমতি নদীর দৈর্ঘ্য ১৭০ কিলোমিটার। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ফরিদপুর, নড়াইল, মাগুরা, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট জেলার একটি নদী হলো মধুমতি নদী।

বিলরুট ক্যানেল,

হিরন্যকান্দী আমগাছ,

আড়পাড়া মুন্সীবাড়ি,

শুকদেবের আশ্রম, খানার পাড় দীঘি,

উলপুর জমিদার বাড়ি : উলপুর জমিদার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলা সদর উপজেলার উলপুর নামক এলাকায় অবস্থিত। এ এক ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি।

এস.এম.মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়,

হেমায়েত বাহিনী জাদুঘর(কোটালিপাড়া),

৭১-এর বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ (স্মৃতিস্তম্ভ),

রাজা সমাচার দেব, ধর্মাদিত্য ও গোপচন্দ্রের আমলের তাম্রলিপি,

সত্য ধর্মের প্রবর্তক দীননাথ সেন: সত্য ধর্মের প্রবর্তক দীননাথ সেনের সমাধিসৌধ গোপালগঞ্জ জেলার জলিরপাড়, মুকসুদপুর গ্রামে।

পাগল সেবাশ্রম, কদমবাড়ি,

গওহরডাঙ্গা মাদরাসা( টুঙ্গিপাড়া)

বাঘিয়ার বিল(টুঙ্গিপাড়া),

হোগলাডাঙ্গা বড় মসজিদ,

ছোট বনগ্রাম জমিদার বাড়ি : ছোট বনগ্রাম জমিদার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলারমুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নে অবস্থিত।

ভেন্নাবাড়ী মাদরাসা, গোপালগঞ্জ সদর,

সুকতাইল মঠবাড়ি,

বাটিকামারী জমিদার বাড়ি : বাটিকামারী জমিদার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারী নামক স্থানে অবস্থিত।

শেখ রাসেল শিশুপার্ক, টুঙ্গিপাড়া,

শেখ কামাল স্টেডিয়াম, গোপালগঞ্জ,

লেকপাড়, গোপালগঞ্জ শহর,

ব্যাসপুর বাগের জামে মসজিদ।

গোপালগঞ্জ জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ছিলেন বাঙ্গালী জাতির পিতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিতা।

শেখ লুৎফুর রহমান : শেখ লুৎফুর রহমান , ব্রিটিশ ভারতের গোপালগঞ্জ দেওয়ানী আদালতের নথি সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তা। তিনি হলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিতামহ।

শেখ সায়েরা খাতুন : শেখ সায়েরা খাতুন হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মা। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দাদী।

শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব: শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলেন বঙ্গমাতা ও বঙ্গবন্ধুর সহধর্মীনি ।

শেখ আবু নাসের: বঙ্গবন্ধুর ভাই হলেন শেখ আবু নাসের।

মুজিবুর রহমান হাওলাদার : মুজিবুর রহমান হাওলাদার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ।

শেখ কামাল : শেখ কামাল বঙ্গবন্ধুর প্রথম ছেলে।

শেখ জামাল : শেখ জামাল বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় ছেলে।

শেখ রাসেল : শেখ রাসেল, বঙ্গবন্ধুর সর্বকনিষ্ঠ সন্তান

রমেশচন্দ্র মজুমদার, বাঙালি ইতিহাসবিদ

শামসুল হক ফরিদপুরী, লেখক, ইসলামী চিন্তাবিদ

সুধীরলাল চক্রবর্তী, সুরকার ও সঙ্গীতজ্ঞ ও সুরকার

শেখ মুজিবুর রহমান, জাতির জনক

শেখ হাসিনা – বর্তমান প্রধানমন্ত্রী

শেখ রেহানা, বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় মেয়ে

সিরাজুল হক খান -সাবেক স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব

সুকান্ত ভট্টাচার্য, কবি

শহীদ উল্লা খন্দকার, সরকারি কর্মকর্তা

কাজী আব্দুর রশীদ, রাজনিতিবিদ

শেখ ফজলুল হক মনি : শেখ ফজলুল হক মনি হলেন এক অন্যতম যুবলীগের প্রতিষ্টাতা চেয়ারম্যানঅ

ফারুক খান, সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী ও এম.পি.

মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান (চিকিৎসক)

মথুরানাথ বসু, বিশিষ্ট খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচারক ইত্যাদি গোপালগঞ্জ জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি রয়েছেন।

আমাদের আজকের আর্টিকেলের মূল বিষয় ছিল গোপালগঞ্জ জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত? সে সম্পর্কে। নান্দনিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং প্রখ্যাত রাজনীতিবিদদের জন্মভূমি হওয়ার কারণে গোপালগঞ্জ বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা যেটি তার নিজের বৈশিষ্ট্য দ্বারা গঠিত।

আশা করি বন্ধুরা আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে এসেছে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ