বৃহস্পতিবার, জুন ১৩, ২০২৪
spot_img

কুষ্টিয়া কিসের জন্য বিখ্যাত । kushtia kiser jonno bikkhato

কুষ্টিয়া কিসের জন্য বিখ্যাত

 

দেশের ৬৪টি জেলার মধ্য কুষ্টিয়া জেলাকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হয়। এইক্ষেত্রে অনেকে মনে প্রশ্ন আসতে পারে কুষ্টিয়া কিসের জন্য বিখ্যাত। কুষ্টিয়া জেলা কুলফি আইসক্রিম ও তিলের খাজার জন্য বিখ্যাত ধরা হয়েছে ।কুষ্টিয়া জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। যার উত্তরে রাজশাহী, নাটোর ও পাবনা জেলা । এছাড়াও রয়েছে লালনশাহের মাজার, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি টেগর লজ। দেশেরদ্বিতীয় প্রচীন রেলওয়ে স্টেশন পোড়াদহ, মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তভিটা, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, অশোক মিষ্টান্ন ভান্ডার কিংবা মৌবনের রসমালাই আর সাদা দই, এবং কুমারখালীর রমেশের রশগোল্লা ইত্যাদির কারনেই সহজেই অনুমান করা যায় কুষ্টিয়া জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত। তাহলে বন্ধুরা কিছুটা হলেও ধারনা তো পাচ্ছি কিসের জন্য বিখ্যাত কুষ্টিয়া জেলা। এবার তাহলে জেনে নিন বিস্তারিত।

কুষ্টিয়া কিসের জন্য বিখ্যাত । kushtia kiser jonno bikkhato
কুষ্টিয়া কিসের জন্য বিখ্যাত

 

কুষ্টিয়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পৌরসভা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।  আয়তনে জেলাটি প্রায় ১৬২১.১৫ বর্গ কিমি।  কুষ্টিয়াকে বাংলাদেশের এগারোতম বৃহত্তম শহর বলা হয়ে থাক । কুষ্টিয়া (মুজিবনগর) বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী। লালন ফকিরের মাজার ছাড়াও জেলার শিলাইদহে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা।মোট ৬টি উপজেলা নিয়ে কুষ্টিয়া জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম বিস্তৃত।

জেলাতে রয়েছে ইসলাম বিষয়ক দেশের একমাত্র সরকারি স্বাধীন প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। রয়েছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিল্পকলা একাডেমি। কুষ্টিয়া শহরকে এ জেলার প্রশাসনিক সদর  প্রধান শহর বলা হয়ে থাকে। এই জেলাটি খুলনা বিভাগের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। জেলার মানুষের মুখের ভাষা দেশের সবচেয়ে শুদ্ধ ভাষা অর্থাৎ বাংলা ভাষার সবচেয়ে প্রমিত রূপ বলা হয়ে থাকে এই কুষ্টিয়ার ভাষাকে।

 

কুষ্টিয়ার ইতিহাস

অনেক আগে কুষ্টিয়া অবিভক্ত ভারতের নদীয়া জেলার (বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে) অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়াও পাবনা জেলার মহকুমা থানা হিসেবেও রাজশাহী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল কুষ্টিয়া ।কোম্পানি আমলে কুষ্টিয়া যশোর জেলার অধীনে ছিল। ১৮৬৯ সালে কুষ্টিয়াতে একটি পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। হ্যামিলটন গেজেট প্রথমে এ কুষ্টিয়া শহরের কথা উল্লেখ করেছিলেন।

বাউল সম্রাট লালন ফকিরের মাজার কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়নের ছেঁউড়িয়া গ্রামে  বর্তমানে অবস্থিত । যা শুধু দেশের নয় দেশের বাহিরের মানুষের কাছেও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। সেই দিক থেকে অবশ্যই “কুষ্টিয়া কিসের জন্য বিখ্যাত” এই প্রশ্নে উত্তর মিলে যায় শতভাগ। 

 

রাজত্বকাল

অবশ্য কুষ্টিয়া কোনো প্রাচীন নগর নয়। সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে এখানে একটি নদীবন্দর ছিল। যদিও ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বন্দর বেশি ব্যবহার করত, তখন নীলচাষী নীলকরদের আগমনের  পর পরেই এর নগরায়ন শুরু হয়। ১৮৬০ সালে কলকাতার (তৎকালীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর রাজধানী)সাথে সরাসরি রেলপথ স্থাপিত হয়। সে কারণে এ অঞ্চলকে শিল্পায়নের জন্য আদর্শ স্থান বলে বিবেচিত করা হয়। 

১৯৪৭সালে ভারতবর্ষ ভাগের সময় কুষ্টিয়া পৃথক একটি জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তৎকালীন এস ডি মৌলভি আব্দুল বারী বিশ্বাস কে কেন্দ্র  করে ১৯৫৪ সালে গঙ্গাকপোতাক্ষ প্রকল্পের সদর দপ্তর স্থাপন করা হয় বলে জানা যায়। ছাড়া আরো বেশ কিছু সরকারি অফিস কুষ্টিয়ায় স্থাপনের পরে শহরটিতে পুনরায় নবউন্নয়ন শুরু হয়। কুষ্টিয়া জেলায় বাংলাদেশের সর্বপ্রথম রেলস্টেশন জগতি রেলওয়ে স্টেশন, বাংলাদেশের প্রথম বালিকা বিদ্যালয় ,কুমারখালি পাইলট মাধ্যমিক ও বালিকা বিদ্যালয় রয়েছে।

 


জেলা পরিচিতি

 

কুষ্টিয়া জেলায় মোট ৬টি উপজেলা রয়েছে , তার মধ্যঃ ৭টি থানা, ৫টি পৌরসভা, ৫৭টি ওয়ার্ড, ৭০টি মহল্লা, ৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং  ৭১০টি মৌজা ৯৭৮টি গ্রাম রিয়ে  বিভক্ত রয়েছে। 

উপজেলা : কুমারখালী উপজেলা, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা, খোকসা উপজেলা, দৌলতপুর উপজেলা, ভেড়ামারা উপজেলা, মিরপুর উপজেলা।

 

বৃহত্তর কুষ্টিয়া

ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে  জানা গেছে কুষ্টিয়া কয়েকটি সাবডিভিশন নিয়ে গঠিত এটি একটি বড় জেলা, যার প্রতিটি সাবডিভিশন পরবর্তীকালে জেলা হিসেবে খন্ডিত  হয়েছে। কিন্তু এই তিন জেলায় চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর কুষ্টিয়ার মানুষের কাছে  কুষ্টিয়া  একটি প্রানময় জেলা। বিশেষভাবে উল্লেখ করে দেখা গেছে যে, এই অঞ্চলের আদি বাসিন্দাদের মুখের ভাষার সাথে আধুনিক প্রমিত বাংলার ঘনিষ্ঠ মিল পাওয়া যায়। এদের কথ্যভাষা সুস্পষ্ঠ ও শুদ্ধরুপিয়। বলার অবকাশ রাখেনা যে কথ্যভাষা সুস্পষ্ঠ ও শুদ্ধরুপিয় হওয়ার মাঝেই “কুষ্টিয়া কিসের জন্য বিখ্যাত” এ প্রশ্নের উত্তর সুস্পষ্ট। 

এই তিন জেলার অধিবাসীদের বৃহত্তর সমাজকে বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলা বলা হয়। বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার উপজেলাগুলো হচ্ছেকুষ্টিয়া সদর, মেহেরপুর সদর, চুয়াডাঙ্গা সদর, কুমারখালি, আলমডাঙ্গা, গাংনী, ভেড়ামারা, মিরপুর, দামুড়হুদা, দৌলতপুর, জীবননগর, মুজিবনগর খোকসা নিয়ে বিস্তৃত।

 

অর্থনীতি

বাংলাদেশের অন্যান্য সব অঞ্চলের মতো কুষ্টিয়াতেও  কেবল চাষাবাদের উপর নির্ভরশীল নয়।  চাষাবাদের পাশাপাশি কুষ্টিয়ায়  বিভিন্ন শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। কুষ্টিয়াতে এখন  অনেক তামাকের কারখানা হয়েছে। এর মধ্যে নাসির টোব্যাকো লিমিটেড, ব্রিটিশআমেরিকান টোব্যাকো, দি ইউনাইটেড ঢাকা টোব্যাকো, পারফেক্ট টোব্যাকো বিশেষভাবে  উল্লেখযোগ্য। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে যদি প্রশ্ন রাখেন “কুষ্টিয়া কিসের জন্য বিখ্যাত” তাহলে সহজেই উত্তর মিলে যাবে।

 বাংলাদেশের বৃহত্তম বৈদ্যুতিক তার তৈরির কারখানা বি.আর.বি. কেবলস  কেবলমাত্র  এখন কুষ্টিয়াতেই  অবস্থিত রয়েছে। কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলায় গড়ে উঠেছে উন্নতমানের ফ্রেব্রিকস শিল্পকারখানা। এখানে উৎপাদিত  হচ্ছে ফ্রেব্রিকস সামগ্রী  যা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও  বর্তমানে রপ্তানি হচ্ছে। 

 

বর্তমানে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায়  বিসিক শিল্প নগরীতে অনেক বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বিসিক শিল্পনগরীতে রয়েছে বিভিন্ন  টেক্সটাইল হোসিয়ারী ইন্ডাস্ট্রিসমুহ। ভেড়ামারা উপজেলায় ৫০০ একর জায়গার উপর বর্তমানে নির্মিত হচ্ছে কুষ্টিয়ার ইকোনোমিক জোন।,যেখানে  এখন শত শত শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সম্ভাবনা বেশী  তৈরী  হয়েছে।কুষ্টিয়াতে এর পাশাপাশি গড়ে উঠেছে অনেক আটা ময়দার মিলসমুহ। 

 

কুষ্টিয়ার দর্শনীয় স্থান

বাংলাদেশে ৬৪ টি জেলার মধ্য কুষ্টিয়া একটি প্রাচীন জনপদ। পূর্বে কুষ্টিয়া নদীয়া জেলার একটি মহকুমা ছিল। যা এখানে দেখার মত ও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছেঃ

 

রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ী

কুমারখালি উপজেলার শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত কুঠিবাড়ী  অবস্থিত রয়েছে।

ফকির লালন সাঁইজির মাজার

বাউল ফকির লালন সাঁইজির মাজার কুমারখালি উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়নের ছেউড়িয়া গ্রামে অবস্থিত আছে।

টেগর লজ

কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়ায় অবস্থিত এই দোতলা ভবনটি অবস্থিত।

গোপীনাথ জিউর মন্দির

নলডাঙ্গার মহারাজা প্রমথ ভূষণ দেব রায় কর্তৃক দানকৃত জমির উপর নির্মিত রয়েছে এ মন্দিরটি।

মীর মোশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক মীর মোশাররফ হোসেনের বাস্তভিটা কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়ায়  এটি অবস্থিত;

পাকশী রেল সেতু

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অবস্থিত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেল সেতু হর পাকশী রেল সেতু।

লালন শাহ সেতু

কুষ্টিয়া জেলার পদ্মা নদীর উপর নির্মিত হয়েছে বিশেষ এই লালন শাহসেতুটি। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেতু হিসেবে চিহ্নিত এই সেতু।

ঝাউদিয়া শাহী জামে মসজিদ

চারশো বছরের পুরনো ঝাউদিয়া শাহী জামে মসজিদ, নবাব শায়েস্তা খানের আমলে নির্মিত করা হয়েছিল এ মসজিদটি।

পদ্মাগড়াই মোহনা

কুষ্টিয়া শহরের কিছুটা দুরেই  রয়েছে পদ্মা গড়াই নদীর মোহনা, অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় স্থানটি তখনথেকেই পর্যটকদের মনকে ভুষিভুত করেছে।

এছাড়াও কুষ্টিয়া জেলাতেই রয়েছে  বিভিন্ন জানা অজানা অনেক কিছু যা কেবল আমরা পরিদর্শন করলে অনেক কিছু জানতে পারবো কুষ্টিয়া সমন্ধে। আর আমাদের মনের কোণে জমে থাকা প্রশ্ন “কুষ্টিয়া কিসের জন্য বিখ্যাত” তার উত্তরও পেয়ে যাব ইনশাল্লাহ।

বন্ধুরা আশা করি আপনাদের কাছে আমাদের আর্টিকেলটি ভাল লেগেছে। এই লেখাটি যদি আপনাদের উপকারে আসে তাহলে শেয়ার করতে ভুলবেন না। পরবর্তিতে আমাদের নতুন আর্টিকেল পড়ার আমন্ত্রণ রইলো। 

 

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ