শুক্রবার, জুন ১৪, ২০২৪
spot_img

সামনে আরও বাড়তে পারে লোডশেডিং !

কখোন বিদ্যুতের লোডশেডিং হবে সেটা কেউ না জানলেও এক ঘন্টা পরে যে বিদ্যুৎ আসবে সেটা কারোই অজানা নয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে  বিদ্যুৎ নিয়ে এমন প্রশ্নের উত্তর প্রায় সবারই একের ঘরের নামতার মতো মুখস্ত। প্রচণ্ড গরমে দেশজুড়ে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। সঙ্গে যোগ হয়েছে অসহনীয় লোডশেডিং। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে। বলা হচ্ছে জ্বালানি ঘাটতির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খোদ বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে অন্তত দুই সপ্তাহ লাগবে। যদিও খাত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরম অব্যাহত থাকলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। সামনে লোডশেডিংও আরও বাড়তে পারে।

গরম বাড়ায় দিনকে দিন লোডশেডিং পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টারও বেশি লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। দেশে এমনিতেই বিভিন্ন জেলার উপর দিয়ে প্রচণ্ড তাপদাহ বয়ে চলছে। রাজধানীতেই গতকাল দিনের বেলায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা লোডশেডিং হয়েছে।

সূত্র মতে, সারা দেশে গতকাল বেলা ১২টায় ৩ হাজার ৬৯৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল। ওই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৭৫০ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ সম্ভব হয়েছে ১১ হাজার ৫২ মেগাওয়াট।

ওদিকে কয়লা সংকটের কারণে আজ থেকে বন্ধ হতে যাচ্ছে পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, কয়লা না থাকায় ২৫শে মে একটি ইউনিট বন্ধ করা হয়। পরে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বাকি একটি ইউনিট থেকে দিনে ৪৫০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। তাও ৫ই জুন থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. কাওসার আমীর আলী বলেন, তার এলাকায় গতকাল ২ থেকে ৩ ঘণ্টা লোডশেডিং করতে হয়েছে। দুপুর ৪টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৩৮০ মেগাওয়াট। কিন্তু চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল ২৫০ মেগাওয়াট।

অন্যদিকে ডলার সংকট, জ্বালানি ঘাটতি ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ৪৫ শতাংশ অব্যবহৃত থাকায় জুনে লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা এখন ২৭ হাজার ৩৬১ মেগাওয়াট। গ্রাহক সংখ্যা সাড়ে ৪ কোটি।

বিদ্যুৎ খাত এখন যে গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছে যা প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি। তবে তা অপর্যাপ্ত বলে মনে হচ্ছে। কারণ ১১ হাজার ৩৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিপরীতে গড়ে প্রায় ৪ হাজার ৮১৮ মেগাওয়াট গ্যাস-চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ৭ হাজার ১২২ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিপরীতে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ৩ হাজার ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিপরীতে প্রায় ২ হাজার ২২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। এক হাজার ১৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিপরীতে বাংলাদেশ ভারত থেকে এক হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি হচ্ছে। দেশের ৫৫ শতাংশ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি)। বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতির কারণে তারাও সব এলাকায় লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ