বুধবার, জুন ১৯, ২০২৪
spot_img

ঝিনাইদহ জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত । Jhenaidah jela kiser jonno bikkhato

ঝিনাইদহ জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত

 

আমার জানি আমাদের দেশকে নদীমাতৃক দেশ বলা হয়। বাংলাদেশর ৬৪টি জেলার মধ্যে এক অন্যতম হলো ঝিনাইদহ জেলা। আমাদের অনেকের মনে নানান সময় নানান ধরনের প্রশ্ন আসে। সেই প্রশ্ন থেকেই ঝিনাইদহ জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত ?

ঝিনাইদহ জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত । jhenaidah jela kiser jonno bikkhato
ঝিনাইদহ জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত

ঝিনাইদহ জেলা সম্পর্কে তথ্য

ঝিনাইদহ জেলার আয়তন ১,৯৬৪.৭৭ বর্গকিমি। ঝিনাইদহ জেলায় ৬টি উপজেলা, ৬৭ টি ইউনিয়ন, ৬টি পৌরসভা, ৯৪৫ টি মউজা, ১১৪৪ টি গ্রাম, ৫৪ টি ওয়ার্ড এবং ১৩৬ টি মহল্লা নিয়ে গঠিত।

ঝিনাইদহ জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের অন্তর্গত একটি জেলা ।ঝিনাইদহ জেলা একসময়ে যশোর জেলার মহকুমা ছিল। ঝিনাইদহ জেলা ১৯৬২ মহকুমা হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে ঝিনাইদহ জেলাকে পৃথক করা হয়। ঝিনাইদহ জেলা ১৯৭১ সালে ৬ই ডিসেম্বরে স্বাধীনতা লাভ করে। বলা যায় যে প্রতিটা জেলায় কম বেশী নদী রয়েছে সেক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি। 

ঝিনাইদহ জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত

কপোতাক্ষ-নদী, হরি এবং ম্যানেজারের ধানের জন্য ঝিনাইদহ জেলা বিখ্যাত। তাছাড়া ঝিনাইদহ জেলার আরো কিছু বিখ্যাত নদীগুলোর নাম হলো :

 

নবগঙ্গা নদী, কপোতাক্ষ নদ, ডাকুয়া নদী, গড়াই নদী, কুমার নদ, বেতনা নদী, বেগবতী নদী, চিত্রা নদী ও ভৈরব নদী।

এছাড়াও বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের জন্য ঝিনাইদহ জেলা বিখ্যাত। নিচে বিস্তারিত ভাবে লিখা হলো।

 

ঝিনাইদহ জেলার নামকরণের ইতিহাস

এই জেলার নামকরণের সম্পর্কে তেমন কিচু জানা যায়নি তবে নবগঙ্গা নদী থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করা হতো সেই জন্য এই এলাকা বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল। ঝিনুকের নাম জড়িয়ে দিয়ে ঝিনাইদহ জেলার নামকরনের করা হয়েছে। এছাড়া নবগঙ্গা থেকে ঝিনুক কুড়ানো বসতি হয়ে ছিল ।

ঝিনাইদহ জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত? বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ হিসেবে পরিচিতি তাছাড়া বাংলাদেশের প্রতিটা জেলায় কৃষিকাজ করে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সচল করে রেখেছে। তার মধ্যেই এক অন্যতম হলো জেলা ঝিনাইদহ, ঝিনাইদহের অর্থনীতি সাধারণত কৃষির উপর নির্ভর্শীল। ঝিনাইদহের অর্থনীতির এই এলাকার প্রধান ফসল হলো : 

ধান, পান, পাট, গম, আখ, রসুন, পেঁয়াজ সরিষা, মরিচ, বিভিন্ন ধরনের ডাল শাকসবজি ইত্যাদি। 

 

ঝিনাইদহ জেলার দর্শনীয় স্থান

বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ জেলার ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশের প্রতিটা জেলায় দর্শনীয় স্থান রয়েছে। তার মধ্যে ঝিনাইদহ জেলায় কিছু দর্শনীয় স্থানের নামসমূহ হলো

নলডাঙ্গা জমিদার বাড়ি

নলডাঙ্গা জমিদার রাজবাড়ীটি ১৬৫০ সালের দিকের একটি জমিদার বাড়ি ছিলো। যা  এখন এটা একটা পর্যটন কেন্দ্র। নলডাঙ্গা জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা হলেন বিষ্ণুদাস। তিনি (বিষ্ণুদাস হাজরা) ছিলেন একজন সন্ন্যাসি। একদিন জঙ্গলে তপস্যা করা সময় মোগল সাম্রাজ্যের সুবেদার মানসিংহ তার সৈন্যসামন্ত নিয়ে রাজধানীতে যাচ্ছিলেন।খাবার যোগার করার জন্য জঙ্গলে যান তখন বিষ্ণুদাস হাজরাকে তপস্যারত অবস্থায় দেখতে পায়। বিষ্ণুদাস তাদেরকে খাবরের ব্যবস্থা করে দেয় । খুশি হয়ে মোগল সুবেদার তাকে ৫টি গ্রাম দান করে দেন। সেই থেকে নলডাঙ্গা জমিদার বাড়ির সৃষ্টি।

 

নলডাঙ্গা মন্দির

 

নলডাঙ্গা মন্দির ১৬৫৬সালে ঝিনাইদহের নলডাঙ্গা রাজা বাহাদুর প্রথম ভূষণ দেবরায় নলডাঙ্গা মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। নলডাঙ্গা মন্দির নলডাঙ্গা ইউনিয়নে অবস্থিত । এছাড়া ৭টি মন্দির নির্মাণ করেন তারই উল্লেখযোগ্যে শ্রী শ্রী সিদ্ধেশরী মায়ের মন্দির, লক্ষ্মী মন্দির, তারা মন্দির, কালীমাতা মন্দির, দ্বিতল বিশিষ্ট বিঞ্চু মন্দির।

 

সাতগাছিয়া গায়েবানা মসজিদ

 

সাতগাছিয়া গায়েবানা মসজিদ ঝিনাইদহ জেলায় অবস্থিত।১৯৮৩ সালে বিরাট আকারের ঢিবির কিছু অংশ খনন করে স্থানীয় জনগণ । ৩৫ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির ধংসাবশেষের অস্তিত্ব খুঁজে পায় ১৯৯০ সালে। যা বাগেরহাটের খানজাহানআলী মসজিদটি নির্মিত ষাট গম্বুজ মসজিদ স্থাপত্যশৈলী অনুরূপ হলো সাতগাছিয়া গায়েবানা মসজিদ।

 

শৈলকুপা জমিদার বাড়ি

শৈলকুপা জমিদার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার আবাইপুর গ্রামে অবস্থিত। যার ঐতিহাসিক “শিকদার স্ট্রিট” নামে পরিচিত ছিল এই জমিদার বাড়ি। ১২০০ বঙ্গাব্দের মাঝামাঝি সময়ে বর্তমান ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় উক্ত জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন জমিদার রামসুন্দর শিকদার ।এই জমিদার বাড়িটি প্রায় ৪শত বিঘা জমির উপর দ্বিতল বিশিষ্ট্য একটি প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়। জমিদার বাড়িটি এখন আর আগের মতো নয়। এখনো তার (জমিদার বাড়ি) একাংশে উত্তরসুরিরা বসবাস করছে আর একাংশে স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস রয়েছে।উত্তরসুরিদের কাছে জমিদার বাড়ির ব্যবহৃত কিছু আসবাবপত্র গুচ্ছিত রয়েছে। বাদ্যযন্ত্র এসরাজ, পাথরের তৈরি হুক্কা, একটি তরবারি, রূপার তৈরি জরির নকশা করা বেনারসি শাড়ির অংশবিশেষসহ বেশ কিছু প্রততাত্ত্বিক নিদর্শন। রামসুন্দরের উত্তরসুরি রাজকুমার শিকদারের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তাহলে বন্ধুরা এবার নিশ্চই বুঝতে পেরেছেন ঝিনাইদহ জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত। 

আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের ভাল লেগেছে । আমাদের আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

 

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ